শিরোনাম

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

PPR কি? ছাগলের এই রোগটি সম্পর্কে জানুন ও আপনার ছাগলকে রক্ষা করুন।

 

PPR কি? ছাগলের এই রোগটি সম্পর্কে জানুন ও আপনার ছাগলকে রক্ষা করুন।


পিপিআর (PPR) কি?

পিপিআর (PPR, Peste des-Petits-Ruminant) রোগটি ভাইরাস জনিত ছাগলের খুব মারাত্মক একটি রোগ। এই রোগের মরটালিটি এবং মরবিডিটি অনেক বেশী হয়ে থাকে। পিপিআর মহামারী আকারেও ছাড়াতে পারে। যখন এই রোগটি কোন এলাকায় মহামারী আকারে ছাড়ায়, তখন এই এলাকায় ৯০-১০০ভাগ প্রাণী আক্রান্ত হতে পারে এবং ৫০-৮০ভাগ প্রাণী মারা যেতে পারে।পিপিআর সর্বপ্রথম ১৯৪০ সালে আফ্রিকার আইভরিকোষ্ট এ সনাক্ত করা হয়।রোগটি পরবর্তীতে আরব পেনিনসুলা হয়ে ১৯৮৭সালে ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এই রোগটি ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম দেখা যায়, যা আজ পর্যন্ত এদেশে ছাগল পালনে বড় বাধা হয়ে আছে।



PPR রোগের কারণ ও কোন কোন প্রাণীতে হয়ে থাকে?

এই রোগটি জন্য Paramyoxoviridae পরিবারের Morbillivirus দায়ী। ছাগল এবং ভেড়াতে খুব বেশী হয়। এছাড়াও গরু, মহিষ এবং small wild ruminat প্রাণীতে হওয়ার ইতিহাস আছে। বিঃদ্রঃ ১বছর বয়সের কম ছাগলে এই রোগটি বেশী হয়। ভেড়ার চেয়ে ছাগলে এই রোগটি বেশী হয়।

PPR কিভাবে ছড়ায়?

আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসলে সুস্থ প্রাণীতে ছাড়াতে পারেআক্রান্ত প্রাণীর নাক,মুখ,চোখ হতে নিঃসৃত তরল, পায়খানার মধ্যমে ছাড়াতে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর হাঁচি,কাশির মাধ্যমে সুস্থ প্রাণীতে ছাড়াতে পারে; পানি, খাদ্য এবং আক্রান্ত প্রাণীর ব্যবহৃত আসবাবপত্র এর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।

ভাইরাসটি শরীরে কী ভাবে রোগ তৈরি করে (pathogenesis)?

ভাইরাস, প্রথমে নাক,মুখ দিয়ে সুস্থ প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে, Retropharyngeal মিউকোসা এবং লিম্ফনোডে যায়। সেখানে ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যখন ভাইরাসটি Allimentary tract এ যায়, তখন সেখানে নেক্রোসিস (Necrosis) হয় এবং ডায়রিয়া হয়। আবার ভাইরাসটি যখন Respiratory tract এ যায়, তখন নিয়মোনিয়া দেখা যায়। আবার Lymphoid system এ যখন যায়,তখন লিউকোসাইট গুলোকে ধ্বংস করে আক্রান্ত প্রাণীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষ্মমতা কমিয়ে দেয়।



রোগের লক্ষণ

ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৩-৬দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। হঠাৎ করে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় (১০৫-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে)। আক্রান্ত প্রাণীর নাক,মুখ,চোখ দিয়ে প্রথমে পাতলা তরল বের হয়। পরবর্তীতে তা ঘন এবং হলুদ বর্ণের হয়। একসময় এই ঘন পদার্থ শুকিয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। মুখ ফুলে যায় এবং মুখের ভিতরে দাঁতের গোড়ায়, দাঁতের ফাকে, তালুতে, ঠোঁটে, জিহ্বাতে ঘা হয়। ডায়িরিয়া দেখা যায়। ডায়িরিয়ার কারনে আক্রান্ত প্রাণীতে ডিহাইড্রেশোন দেখা যায় এবং শুকিয়া যায়। অনেক সময় চোখের পাতা ফুলে যায় এবং ঘন দানাদার পদার্থ বের হয়ে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়। গর্ভবতী প্রানী আক্রান্ত হলে, গর্ভপাত হতে পারে।

পোস্টমর্টেম পর্যবেক্ষণ

ফুসফুস এর রং পরিবর্তন হয়ে কালচে লাল অথবা বেগুনী হয়;

১) কনজেশন দেখা যায় এলভিওলার বর্ডারে (alveolar border)

২)Pleuritis

৩) Mediastinal এবং Messenteric লিম্ফনোড বড় এবং কনজেশটেড (congested) হয়

৪)পরিপাকতন্ত্রে (GIT) কনজেশন এবং নেক্রোসিস থাকে

৫)হেমোরেজিক স্টমাটাইটিস থাকে

৬)colon এবং rectum এর পিছনের দিকের মিউকোসার ভাজে কনজেশন থকে যা জেব্রা চিহ্ন (Zebra marking) এর মতো দেখায়।

রোগ নির্ণয় যেভাবে করবেন

ছাগলের হঠাৎ করেই জ্বর,সর্দি এবং পাতলা পায়খানা হলেই সাধারণ পিপিআর ধরে নেয়া যায়। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট ভাবে জানার জন্য আক্রান্ত প্রানী থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরিক্ষা করতে পারি।

প্রতিরোধ এবং প্রতিকার

১.আক্রান্ত প্রানী থেকে সুস্থ প্রাণীকে আলাদা করে রখে এই রোগ থেকে অন্য প্রানীকে বাচঁতে পারি

২.নিয়মিত পিপিআর এর ভ্যাক্সিন দিয়ে এই রোগের সম্ভাবনা কমাতে পারি

চিকিৎসা

এই রোগের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নাই। লক্ষন অনুযায়ী চিকিৎসা করলে অনেক সময় আক্রান্ত প্রানী সুস্থ হয়ে যায়।এই জন্য রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অথবা নিম্ন লিখিত চিকিৎসা করলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক রয়েছে



প্রাথমিকঃ

১. Asta vet 2ml করে দিনে এক বার মাংসে দিতে হবে।  

২.ইররাপ্রিম (Eraprim) পাওডার ৩ গ্রাম পানির সাথে মিশিয়ে প্রতি দিন এক বার ( বেশি আক্রান্ত হলে সেফটিক জোন ইঞ্জেকশন. ০.৫ গ্রাম ১টি করে দিনে ১ বার) পর পর ৩ দিন মাংসে দিতে হবে। 

৩. ব্রনকোভেট (Bronkcovet) ৫ মিলি করে দিনে ২ বার সকাল সন্ধ্যা ৫-৭ দিন

৪. ল্যানথোনাইড ৫ মিলি করে দিনে ২ বার সকাল সন্ধ্যা ৫-৭ দিন

৫. ফাস্ট ভেট ট্যাবলেট ১/২ (অধ্যেক) করে দিনে ২ বার জর থাকলে ২-৩ দিন

৬. সোহাগা ভেজে গুড়া করে মধুর সাথে মেখে লাগাবেন দিনে ২ বার (মুখে যদি ঘা হয়)। 


নির্দিষ্ট ডোজে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।


প্রতিরোধ

১. পিপিআর রোগের প্রতিরোধের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো ছাগল এবং ভেড়াকে নিয়মিত ৬ মাস পর পর টিকা প্রদান করা।

এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সরকারিভাবে পিপিআর রোগের টিকা সরবরাহ করা হয়। আগ্রহী খামারিরা ওই দপ্তর থেকে পিপিআর টিকা সংগ্রহ করতে পারেন।


বিস্তারিত জানতে ইনবক্সে মেসেজ করেন। অথবা ভিজিট করুন ফেজবুক পেজ krishitips360

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ