শিরোনাম

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

মুরগীর রানীক্ষেত রোগ ও চিকিৎসা

মুরগীর রানীক্ষেত রোগ ও চিকিৎসাঃ
রানীক্ষেত রোগ পরিচিত একটি নাম বাংলাদেশের পোল্ট্রী শিল্পে । রানীক্ষেত অত্যন্ত সংক্রমক , মারাত্বক একটি রোগ। রানীক্ষেত মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ । দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই রোগের সংক্রমক থেকে । বাংলাদেশের সব জেলায় রানীক্ষেত রোগের সংক্রমন দেখতে পাওয়া যায় । আজকে আমি মুরগীর রানীক্ষেত রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইন-শো-আল্লাহ ।




প্রথমে জেনে নেয়া যাক  রানিক্ষেত রোগের ইতিহাসঃ
নিউ ক্যাসল ডিজিজ এর অপর নাম হচ্ছে রানীক্ষেত, ১৯২৬ সালে প্রথম রানীক্ষেত রোগ পাওয়া যায় জাভা, ইন্দোনেশিয়া, এবং ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসল আপন টাইনে নামক স্থানে। উপমহাদেশে বিশেষত ভারত, পাকিস্থান এবং বাংলাদেশে এই রোগকে রানীক্ষেত নামেই সবার কাছেই পরিচিতি লাভ করে, তবে ভারত, পাকিস্থান এবং বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যত্র এই রোগ নিউ ক্যাসল ডিজিজ নামে পরিচিত ।


রানীক্ষেত রোগ কিঃ

রানিক্ষেত রোগ মূলত এভিয়ান প্যারামিক্সোভাইরাস ১ এর জন্য হয়ে থাকে।

রানীক্ষেত রোগ এর সেরোটাইপ মাত্র একটি , কিন্তু এগুলোকে কয়েকটি ভাগে শ্রেনী বিন্যাস করা যায় । 


ক। ভেলোজেনিক – ভেলোজেনিক খুব তীব্র রোগ সৃষ্টি ক্ষমতা সম্পন্ন ।
খ। মেসোজেনিক- মেসোজেনিক কম তীব্র
গ। লেন্টোজেনিকলেন্টোজেনিক কম মাত্রার এই রোগ হলে মুরগীর শ্বাসনালী,অন্ত্রনালী, স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে পড়ে, ফলে এর অপর নাম এভিয়ান নিউমো এনসেফালাইটিস ।


রানীক্ষেত রোগ নিম্বিনের বিভিন্ন্য ভাবে ছড়ায়ে থাকে-

- আক্রান্ত মুরগীর সংস্পর্শে ছড়াতে পাড়ে।
আক্রান্ত মুরগীর লালা, হাচি, ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়াতে পাড়ে
আক্রান্ত মৃত মুরগী যেখানে সেখানে ফেলে রাখলে বিভিন্ন পাখি যেমন কাক, শকুন, চিল, এবং শিয়াল ,কুকুরের মাধ্যমে ছড়াতে পাড়ে

- আক্রান্ত মুরগীর খামারের কমীদের পোশাক , জুতা, স্যান্ডেল,বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ছছড়াতে পাড়ে

- এছাড়া আক্রান্ত মুরগীর ভাইরাস খামারের পরিবেশে থাকে , ফলে বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায় ।


রানীক্ষেত রোগের লক্ষণ সমুহঃ

রানীক্ষেত রোগ যে কোন বয়সের মুরগীর হতে পারে । কিছু লক্ষন দেখে সহজেই বুঝতে পাড়া যায়। লক্ষন গুলো হচ্ছে -

আক্রান্ত মুরগী চোখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকে
আক্রান্ত মুরগী ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে
আক্রান্ত মুরগীর সবুজ পায়খানা দেখা দিতে পারে
আক্রান্ত মুরগীর ডানা ঝুলে পড়ে
আক্রান্ত মুরগীর শ্বাস কষ্ট দেখা যাবে, ফলে মুরগী হা করে নিশ্বাস নেয়
আক্রান্ত মুরগী পানি শুন্যতায় ভোগতে পাড়ে, এবং ল্যাংড়া হয়ে যেতে পারে
আক্রান্ত মুরগীর মলাশয় ফুলে বড় হয়ে যায়, ফলে চুনে পায়খানা আটকে থাকে
আক্রান্ত মুরগীর সদি কাশি দেখা দিতে পারে
আক্রান্ত মুরগী কোন কোন সময় মাথা ঘুরাতে দেখা যায় ,ঘাড় বেকে যায়
আক্রান্ত মুরগীর শ্বাসনালী ও খাদ্যনালীর মিলনস্থল অবস হয়ে যেতে পারে, ফলে আক্রান্ত মুরগী খাবার গ্রহন কমিয়ে দেয়
- ডিম পাড়া মুরগী ডিম পাড়া কমিয়ে দেয়



আক্রান্ত মুরগীর পোস্ট মটেম বা ময়না তদন্তে ফলাফলঃ

স্বাভাবিক চোখে সাভাবিক দেখতে পাওয়া যায়ঃ
মুরগীর প্রভেন্টিকুলাসে ও গিলার উপরে যে আবরন থাকে তার নিচে স্পষ্ট রক্ত বিন্দু দেখতে পাওয়া যায়
- ক্ষুদ্রান্তে এবং সিকাল টন্সিলে গোলাকার ক্ষত দেখতে পাওয়া যাবে
- মুরগীর প্লীহাতে অসংখ্য সাদা সাদা দেখতে স্পট পাওয়া যাবে
- শ্বাস নালীতে জমাট রক্ত দেখতে পাওয়া যাবে
- ফুসফুসে রক্তবিন্দু দেখতে পাওয়া যাবে
- ওভারিয়ান ফলিকল নরম এবং ভাংগা ভাংগা হতে পারে 


আক্রান্ত মুরগীর চিকিৎসা ও খামার নিয়ন্ত্রনঃ
-রানিক্ষেত রোগ একটি ভাইরাস জনিত রোগ, ভাইরাসের বিরুদ্ধে তেমন কাযকারী কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়নি । তবে দ্বিতীয় ধাপে রানীক্ষেত রোগের হাত থেকে কিছু চিকিৎসায় ভাল কাজ করে
-এছাড়া মুরগী পাতলা পায়খানা করলে ইলেক্ট্রোলাইট দিতে পারেন।
-রানীক্ষেত রোগ হলে মুরগী দুবল হয়ে পড়ে, ফলে পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিলে ভালো কাজ করে
- এছাড়া জীবাণুনাশক বা পটাশ মিশ্রিত পানি দিয়ে প্রতিদিন খামারের চারপাশে স্প্রে করতে হবে
- খাবার পাত্র এবং পানির পাত্র ভালো ভাবে পরিস্কার করতে হবে
- মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনা কমাতে হবে
- আক্রান্ত মৃত মুরগীকে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে 
- আক্রান্ত খামারের সকল মুরগী সরিয়ে নিয়ে কমপক্ষে ২১ দিন পর নতুন মুরগী উঠানো



রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থ্যা

ক। ভ্যাক্সিনেশনঃ
-বাচ্চার বয়স ৩-৫ দিনের মধ্যে ভ্যাক্সিন দিতে হবে
-বাচ্চার বয়স ১৪-১৭ দিনে বুস্টার ডোজ দিতে হবে
-বাচ্চার বয়স ৬০-৬৫ দিনে কিল্ড ভ্যাক্সিন দিতে হবে
-বাচ্চার বয়স ১৩০ দিনে ২য় বার দিতে হবে





মুরগি ও টার্কির মাইকোপ্লাজমা/ঠান্ডাজনিত এ রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধঃ

https://www.mnotips.com/2021/08/blog-post_4.html
https://www.mnotips.com/2021/08/blog-post_67.html

হাসের রানীক্ষেত রোগ এবং প্রতিকারঃ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ